পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় কর্মসূচি গ্রিনোভা-২০২৬। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) কর্মসূচিটি আয়োজন করে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ শিক্ষার্থীর সংগঠন- পরিবেশ ও সামাজিক কল্যাণ ক্লাব। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় 'টেকসই উন্নয়ন'।
এই কর্মসূচিতে অংশ নেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
ক্লাবটির উপদেষ্টা এম এস সাইদা সুলতানার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম রশিদুল আলম। তিনি বর্জ্য পানির পরিশোধন, সাফি ফিল্টার উদ্ভাবন এবং জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একজন বিশিষ্ট গবেষক। পরিবেশ দূষণের ভয়াবহ প্রভাব এবং তা কীভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার পর তিনি দূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার গুরুত্বের কথা বলেন।
আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল হক তার বক্তব্যে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গ্রিনোভা ২০২৬ একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ নিয়ে সচেতন হওয়ার উদ্যোগে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল অফিসিয়াল সার্টিফিকেট, নিবন্ধনে বিশেষ ছাড়, ইভেন্ট অ্যাক্সেস পাস, অগ্রাধিকার ভিত্তিক নেটওয়ার্কিং এবং সেরা ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর পুরস্কার জয়ের সুযোগ। এছাড়া পরিবেশবান্ধব পণ্য ও নার্সারির স্টল শিক্ষার্থীদের মধ্যে টেকসই পণ্যের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে।
আয়োজকরা আশা করছেন, এই আয়োজন দেশের তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আরও সক্রিয় ও সচেতন ভূমিকা নিতে অনুপ্রাণিত করবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিবেশ ও সামাজিক কল্যাণ ক্লাব নিয়মিতভাবে প্রতিবছর পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন কর্মশালা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে থাকে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের মানসিকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করা হয়। এছাড়া ক্লাবটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে 'মজার স্কুল' এবং 'উষ্ণতার হাসি'। যা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে এবং শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে।
আরটিভি/এসএস




